পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বরগুনার মুগডাল - উপকূলীয় জনপদের সোনালী শস্য

ছবি
  বরগুনার মুগডাল: উপকূলীয় জনপদের সোনালী শস্য বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বরগুনা। পলিবিধৌত উর্বর মাটি, লোনা বাতাসের পরশ আর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল সব মিলিয়ে এ জেলা কৃষি বৈচিত্র্যে অনন্য। বরগুনার কৃষি পণ্যের তালিকায় অনেক নাম থাকলেও যে পণ্যটি স্বাদে মানে এবং ঐতিহ্যে দেশজুড়ে সমাদৃত, তা হলো 'বরগুনার মুগডাল'। বিশেষ করে এই অঞ্চলের ‘সোনা মুগ’ ডাল তার চমৎকার সুগন্ধ এবং রান্নার পর মাখনের মতো মসৃণ টেক্সচারের জন্য বিখ্যাত।   ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট ও মাটির গুণাগুণ বরগুনা জেলা বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত। পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর এই তিন নদীর পলিমাটি বরগুনার জমিকে করেছে অত্যন্ত উর্বর। এখানকার মাটিতে লবণের একটি বিশেষ মাত্রা থাকে, যা মুগডালের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বরগুনার সদর উপজেলা, আমতলী, তালতলী এবং পাথরঘাটায় সবচেয়ে বেশি মুগডাল চাষ হয়। মূলত আমন ধান কাটার পর জমি যখন শুষ্ক হতে শুরু করে, ঠিক তখনই কৃষকরা মুগডাল বপন করেন। চাষাবাদ পদ্ধতি ও জাত বরগুনার কৃষকরা মূলত দুই ধরণের মুগডাল চাষ করেন একটি স্থানীয় জাত (সোনা মুগ) এবং অন্যটি উচ্চফলনশীল জাত (যেমন: বারি মুগ-৬)। তবে স...

ময়মনসিংহের সবুজ স্বপ্নের বোররচর - কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

ছবি
  ময়মনসিংহের সবুজ স্বপ্নের বোররচর:  কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত বাংলাদেশের কৃষিপ্রধান জেলাগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ এক বিশেষ অবস্থান দখল করে আছে। এখানকার উর্বর ভূমি, ব্রহ্মপুত্রের পলিমাটির দান, আর পরিশ্রমী কৃষকেরা মিলে গড়ে তুলেছেন এক সবুজ বিপ্লবের গল্প। ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত বোররচর এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজি উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখানকার কৃষকদের পরিশ্রম আর সাফল্যের ফলে প্রতিদিন শত শত ট্রাকভর্তি টাটকা সবজি পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষত ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো প্রধান পাইকারি বাজারগুলোতে। ময়মনসিংহের বোররচরের কৃষকেরা এই শাকসবজি চাষ করে শুধু নিজেদের জীবনযাত্রা পরিবর্তন করেননি, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক অবদান রাখছেন। প্রতিদিন প্রায় ১৯ হাজার মণ সবজি বেচাকেনা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১.৫ কোটি টাকা। আর মৌসুমের শীর্ষ সময়ে এ লেনদেন শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ এক অনন্য অর্জন, যা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কৃষি উন্নয়নের এক নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানব ময়মনসিংহের বোররচরে...

শেরপুরের তুলসীমালা ধান - বাংলাদেশের মাটির ঘ্রাণ

ছবি
  কথার কাগজ শ্যামল কথা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার শ্যামলিমার গল্প জেলা - শেরপুর শ্যামলিমা - তুলসীমালা ধান শেরপুরের তুলসীমালা ধান: বাংলাদেশের মাটির ঘ্রাণ ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য। এই ধান ঘিরেই গড়ে উঠেছে গ্রামবাংলার জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি। ধান থেকে উৎপাদিত চাল শুধু ভাতের থালায় সীমাবদ্ধ নয়, এ থেকেই তৈরি হয় পিঠা-পুলি, পায়েস, খিচুড়ি, পোলাওসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাদ্য। কিন্তু সব ধান একরকম নয়। কিছু ধান আছে, যা স্বাদ ও গন্ধের গণ্ডি পেরিয়ে হয়ে ওঠে একটি অঞ্চলের পরিচয়। শেরপুর জেলার তুলসীমালা ধান ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী দেশি জাত। বাংলাদেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত শেরপুর জেলা পাহাড়ঘেরা প্রান্তর, নদীবিধৌত সমভূমি ও উর্বর কৃষিজমির জন্য পরিচিত। এখানকার মাটি, জলবায়ু ও কৃষকের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে জন্ম নিয়েছে তুলসীমালা ধানের মতো সুগন্ধি ফসল। এই ধান শেরপুরের কৃষিজ ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চাষ হয়ে আসছে। সুবাস ও স্বাদের অনন্যতা তুলসীমালা ধান মূলত একটি দেশি সুগন্ধি জাত। এর চাল চিকন, সাদা এবং রান্নার পর ছড়িয়ে পড়ে মৃদু কিন্তু আকর্ষণীয় ঘ্রাণ। স্বাদে এটি নরম ও ঝরঝরে, যা সাধার...

যশোরের নকশী পণ্য - সূচের ফোঁড়ে গাঁথা জীবনের প্রতিচ্ছবি

ছবি
  কথার কাগজ শ্যামল কথা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার শ্যামলিমার গল্প জেলা - যশোর শ্যামলিমা - নকশী পণ্য যশোরের নকশীপণ্য: সূচের ফোঁড়ে গাঁথা জীবনের প্রতিচ্ছবি যশোর, বাংলার নদীবিধৌত এই জনপদ মাগুরা, ঝিনাইদহ আর সাতক্ষীরার সীমানা ছুঁয়ে আপন আলোয় উদ্ভাসিত। একদিকে এর বুক চিরে বয়ে গেছে ভৈরব আর কপোতাক্ষ নদী, অন্যদিকে বিস্তৃত সবুজের বুক ছাপিয়ে গড়ে উঠেছে সাহিত্য, সংগীত আর শিল্পের এক বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য। পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের কলমে ভেসে আসা নকশী কাঁথার ছোঁয়া যেমন এখানকার আঙিনায় বাস্তবতা পেয়েছে, তেমনি হাতের কারুকাজে ফুটে উঠেছে যশোরের নিজস্ব কৃষ্টি। এই জেলার মাটির ঘ্রাণে মিশে থাকা শিল্পকলার একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হলো নকশী পণ্য,যা সময়ের সাথে সাথে শুধু টিকে নেই, বরং আপন সৌন্দর্যে আজও মুগ্ধ করছে দেশ-বিদেশের মানুষকে। সূচ-সুতোয় বাঁধা জীবনচিত্র যশোরের নকশী পণ্য বলতে মূলত যে শিল্পের কথা বোঝানো হয়, তা হলো সূচি কর্মে নকশা তোলা। প্রাচীনকাল থেকেই যশোর অঞ্চলের নারীরা শখের বসে বা সংসারের প্রয়োজনে কাপড়ে নকশা ফুটিয়ে তুলতেন। দিনে দিনে এই ঘরোয়া শিল্প পরিণত হয় জীবিকার মাধ্যম এবং আজ তা একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে রূপ নিয়েছে। ...